আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি এক ডজনের বেশি ব্যাংকে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। গত বছরের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে এই ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স আহরণেও ব্যাংকটির অবস্থান শীর্ষে। ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম।
আমার দেশ : এক বছর হয়েছে আপনি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সময়ে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম : গত বছরের অক্টোবরে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করি। ওই সময় থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বেড়েছে ১০ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আমানত ছিল ৯৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। এসব আমানতের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা স্বল্পসুদবাহী। ২০২৫ সাল শেষে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।
স্বল্পসুদে আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি আমি প্রথম থেকেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বিতরণে বেশি মনোযোগ দেই। বড় ঋণ দেওয়া বন্ধ রেখেছি। আমার সময়ে ঋণ বেড়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে মোট ঋণ স্থিতি ৭৯ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ৫ আগস্টের পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখাগুলোকে শ্রেণিকৃত ঋণের রিপোর্টিং সঠিক ও নির্ভুলভাবে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩২ হাজার দুই কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখন তা ৩২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বা ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মাত্র ২৫৫ কোটি টাকা খেলাপি বেড়েছে। ফলে নতুন করে কোনো খেলাপি ঋণ বাড়ছে না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই। সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে সবাই কাজ করছে। খেলাপির হার কমাতে আদায়ের পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ অব্যাহত আছে। এছাড়া আমাদের ৯৭৯টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ শাখার কোনো ঋণখেলাপি নেই। এ বছর আরো ৭৩টি শাখা খেলাপিশূন্য করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের ৪৫১টি শাখায় কোনো অবলোপনকৃত ঋণ নেই। অবলোপন ঋণ আদায়ের মাধ্যমে আরো ১৬৮টি শাখায় নতুনভাবে অবলোপনমুক্ত করতে চাই।
আমার দেশ : ব্যাংকগুলোর জন্য খেলাপি ঋণ আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের আদায় পরিস্থিতি কেমন?
আনোয়ারুল ইসলাম : রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে অগ্রণীর আদায় অবস্থা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায় করেছি। এর মধ্যে নগদ ৫০১ কোটি, পুনঃতফসিল এক হাজার ৪৭৩ কোটি এবং অবলোপন থেকে ৬৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে শীর্ষ খেলাপি থেকে ঋণ আদায় কম হচ্ছে। এই ৯ মাসে মাত্র ২৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর কারণ অনেকে আত্মগোপনে আছেন আবার অনেক ঋণগ্রহীতা দেশের বাইরে চলে গেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাদের থেকে আদায় করা যাচ্ছে না। যেসব গ্রাহক ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঋণ আদায়ে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে আদায় পরিস্থিতি একটি উল্লেখ্যযোগ্য অবস্থানে নিতে পারি। খেলাপি ঋণ কমাতে পারলে আমাদের এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস কমবে, প্রভিশন সংরক্ষণ করা যাবে এবং মূলধন সংরক্ষনের ওপর ইতিবাচক ভূমিকা থাকবে।
আমার দেশ : নীতি সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খেলাপি হওয়া ঋণ নিয়মিত করা হচ্ছে। আবার পুনঃতফসিলে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের অবস্থা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম : গত সরকারের আমলে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে আবার অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে ব্যবসায় লোকসান করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসব ব্যবসায়ীকে নীতি সহায়তা দেওয়ার। এখন পর্যন্ত ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের নীতি সহায়তার আবেদন পেয়েছি। এখান থেকে একটি উল্লেখযোগ্য ঋণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। সবাই যদি নীতি সহায়তার সুবিধা নেয় তাহলে ব্যাংকের ১২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমে যাবে। এখান থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আদায় হবে। আমরা সব সময় ঋণখেলাপিদের পর্যবেক্ষণে রাখি। তারপরও অনেকে খেলাপি হন।
আমার দেশ : রেমিট্যান্স সংগ্রহে অগ্রণী ব্যাংকর অবস্থান কী?
আনোয়ারুল ইসলাম : রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মধ্যে রেমিট্যান্স সংগ্রহে আমরা শীর্ষস্থানে রয়েছি। এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা অর্জন করেছি, যা এযাবৎকালের মধ্যে অর্ধবার্ষিকীতে সর্বোচ্চ। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ১১টি শাখা রয়েছে, যা আমাদের নিজস্ব কর্মী দিয়ে পরিচালনা করা হয়। এখানে লোকসান নেই। প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করে এ বছর রের্কড পরিমাণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে চাই।
আমার দেশ : অনিয়মের কারণে অনেক ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এক্ষেত্রে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম : আমি আসার পর সুদহার বাড়িয়ে কোনো আমানত সংগ্রহ করি না। সুদহার বাড়িয়ে প্রচার করি না যে, পাঁচ বা সাত বছরে দিগুণ হবে। যেসব আমানত আছে তা নিয়ে নার্সিং করছি। এতে আমি বোঝানোর চেষ্টা করছি ব্যাংকের আস্থার জায়গা সঠিক আছে। গ্রাহকের আস্থা হারানোর কোনো ভয় নেই। কারণ আমানতকারী এসে টাকা তুলতে পারে না, এমন নজির নেই। তাই গ্রাহকরা পুনঃআস্থায় লেনদেন করতে পারবেন। তাদের মূল্যবান সম্পদ সুরক্ষতি থাকবে।
আমার দেশ : অনিয়ম রোধে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?
আনোয়ারুল ইসলাম : করপোরেট সুশাসনে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে।
আমার দেশ : আপনার দায়িত্ব শেষে ব্যাংককে কোন অবস্থায় দেখে যেতে চান?
আনোয়ারুল ইসলাম : আমার দায়িত্ব শেষে ব্যাংককে একটা সুস্থ ব্যাংক হিসেবে দেখে যেতে চাই। ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলো যে অবস্থায় থাকলে একটি ভালো ব্যাংক হিসেবে ধরা হয়, সেখানে রেখে যেতে চাই।
বিশ্ব
ব্রিটেনের রাজা ক্যানসারে আক্রান্ত 02-02-2024বিনোদন
নতুন গানে ইভা রহমান 31-01-2024বাংলাদেশ
পঞ্চগড়ে দিনে তাপমাত্রা বাড়লেও রাতে অনুভূত হচ্ছে শীত 02-02-2024স্বাস্থ্য
আরও ৫১ জনের করোনা শনাক্ত 03-02-2024