সাম্প্রতিক খবর

বিশ্ব
views

প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর নরসিংদীর বেলাবো থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় আইসিইউতে। তিন দিন আইসিইউতে থাকার পর পাঁচ দিন আগে তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

মেয়ের দিকে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মা শাহিনুর আক্তার। বলেন, 'আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে আনার পর ওর অবস্থার উন্নতি খুব ধীরে হচ্ছে।'

'আমার মেয়ের ছোটবেলা থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। প্রতি শীতেই ওর কষ্ট বেড়ে যায়। এবার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমরা ওকে নিয়ে এখানে আসি। কতদিন থাকতে হবে এখানে ডাক্তাররা বলতে পারছেন না,' গত বৃহস্পতিবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন এই মা।

শীতের শুরু থেকেই নিউমোনিয়া রোগী বাড়তে থাকায় ১৯ শয্যার এই ওয়ার্ডটি এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার ১ হাজার ২০০ রোগীকে বর্হিবিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ বিশেষ করে নিউমোনিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ বায়ু দূষণ।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুল হক বলেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিনই ঠাণ্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, দূষিত বাতাসের সঙ্গে ঠান্ডা আবহাওয়ায় অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে বায়ুদূষণের কারণে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৭৪ শিশুকে ৬৮১ শয্যার হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়েছে। গত মাসে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ছিল ২২৭ জন। অক্টোবর এবং সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২৯২ এবং ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪ হাজার ১১৮ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫১১ জন এবং ২০২২ সালে ৩ হাজার ১০৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুসারে, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৯ জন এবং মারা গেছেন ১৯ জন।

সর্বাধিক দেখা খবর